রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:১১ অপরাহ্ন
১৩ বছরের সাকিবের অকাল ও মর্মান্তিক মৃত্যুতে এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে রতনপুর গ্রামের বাতাস। গ্রামবাসী এ ঘটনার দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। Reading Time: < 1 minute
নিজস্ব সংবাদদাতা, ফরিদপুর, পাবনা :
১৩ বছরের কিশোর মো: সাকিব ভ্যান গাড়িটি নিয়ে রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকালে বেরিয়েছিল । অন্যান্য দিনের মতো দুপুরের খাবার খেতে বাড়িতে যাওয়ার কথা থাকলেও ঘরে আর ফেরা হলো না তার। স্বজনদের অপেক্ষার অবসান ঘটলো বড়াল নদীতে ভেসে ওঠা নিথর মরদেহ পাওয়ার খবর শুনে। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টায় ফরিদপুর উপজেলার ডেমরা ইউনিয়নের মাজাট গ্রামের উত্তর পাশে বড়াল নদী থেকে ভাসমান অবস্থায় সাকিবের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।নিহত সাকিব উপজেলার রতনপুর মধ্যপাড়া গ্রামের মো: হারিছ প্রামাণিকের ছেলে। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রোববার সকালে ভ্যানগাড়ি নিয়ে জীবিকার তাগিদে বাড়ি থেকে বের হয় সাকিব। দীর্ঘ সময় পার হলেও সে বাড়িতে না ফেরায় উদ্বিগ্ন পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজখবর নিতে থাকেন। একপর্যায়ে মাজাট গ্রামের কাছে বড়াল নদীতে একটি মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা থানায় খবর দেন। পরে ফরিদপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে নদী থেকে মরদেহটি উদ্ধার করলে সাকিবের স্বজনরা তা শনাক্ত করেন।
নৃশংস এই ঘটনাকে ঘিরে এলাকাটিতে নানা প্রশ্ন ও চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সাকিবের সঙ্গে থাকা ভ্যানগাড়িটি গায়েব হয়ে যাওয়ায় ধারণা করা হচ্ছে, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।
পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, ব্যাটারিচালিত ভ্যানগাড়িটি ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যেই দুর্বৃত্তরা কিশোর সাকিবের মাথায় কাঠের টুকরা বা ভারী কোনো বস্তু দিয়ে আঘাত করে হত্যা করেছে। পরে প্রমাণ লোপাটের জন্য মরদেহ নদীতে ফেলে ভ্যান গাড়িটি নিয়ে ঘাতকরা পালিয়ে গেছে।
১৩ বছরের সাকিবের অকাল ও মর্মান্তিক মৃত্যুতে এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে রতনপুর গ্রামের বাতাস। গ্রামবাসী এ ঘটনার দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ফরিদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মঞ্জুরুল হাসান মাসুদ জানান, “বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। নিহতের মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ধারণ, নিখোঁজ ভ্যানগাড়িটি উদ্ধার এবং এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ঘাতকদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে বিস্তারিত জানা যাবে।”